
জয়নাল আবেদীন যশোরী:
আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের নামে চলছে তালবাহানা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডির প্রকল্প পরিচালক (পিডি)আব্দুর রাজ্জাকের অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে স্বদেশ বিচিত্রা সহ দেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ এর পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে এলজিইডি প্রশাসন।
গত ২৫ শে জুন ২০২৬ তারিখের ২৬.১২.০০০.০০১.২৪.০২৫.৬৪৮ নং স্মারকে মোঃ আবদুল বারেক হাওলাদার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রশাসন স্বাক্ষরিত এক আদেশে, আক্তার হোসেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (নগর) পরিকল্পনা ও নগর অবকাঠামো উন্নয়ন এলজিইডি কে এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে সাত কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আদেশ দেন।
এলজিইডি’র কোনো পিডি দুর্নীতি, অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহার করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে সরাসরি ফৌজদারি মামলা ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে।
মূলত: দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং দন্ডবিধি, ১৮৬০ এর অধীনে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়।
তাহলে কি এলজিইডির পিডি আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন লোক দেখানো?
যেমন সাত কর্ম দিবসের তদন্ত এখন ঘুমিয়ে আছে, তার কারণ তদন্ত কমিটির ওই সদস্যও দুর্নীতিগ্রস্থ। এমন অভিযোগ সোনা যাচ্ছে খোঁদ এলজিইডি’র সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মুখে মুখে। এলজিইডির অনেক পিডির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকে অভিযোগ আছে এবং দুদক মাঝে মধ্যে অনুসন্ধান করে এলজিইডির প্রধান দপ্তরে ও বিভিন্ন জেলা কার্যলয়ে অভিযান পরিচালনা করে।
এবার জানা যাক, সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা অনিয়ম দূর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করলে আইন কি বলে?
তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা ও শাস্তি:
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন: পিডি যদি তার সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের বা অন্য কারো জন্য অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন, তবে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর তফশিলভুক্ত অপরাধ হিসেবে দুদক তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও তদন্ত করতে পারবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও বাজেয়াপ্ত হতে পারে।
দন্ডবিধি (Penal Code, ১৮৬০): সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে অসদুপায় অবলম্বন, সরকারি অর্থ বা সম্পত্তির আত্মসাৎ (Criminal Breach of Trust এবং জালিয়াতির মাধ্যমে টেন্ডার বা ঠিকাদারি কাজে অনিয়ম করলে দন্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ এবং ৪৭৭(ক) ধারায় মামলা হতে পারে। দোষী সাব্যস্ত হলে ৫ থেকে ৭ বছরের কারাদন্ড এবং অর্থদন্ডের বিধান রয়েছে [
দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭: The Prevention of Corruption Act, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী 'ফৌজদারি অসদাচরণ' (Criminal Misconduct) করলে তাকে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদন্ড বা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করা যায়। তবে
বিভাগীয় ব্যবস্থা ও অন্যান্য আইন:
রাষ্ট্রীয় শাস্তি: দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হওয়ার পর তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত (Suspension) করা হতে পারে, পরবর্তীতে বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত বা বাধ্যতামূলক অবসরের মতো প্রশাসনিক শাস্তি হতে পারে।
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট (PPA, ২০০৬): সরকারি ক্রয়ে (Public Procurement) দুর্নীতি ও কারসাজি প্রমাণিত হলে, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬-এর আওতায় তার বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের সাথে যোগসাজশের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
এসব আইনের তোয়াক্কা না করে পিডি আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ ধামাচাঁপা দিতে, তদন্তের নামে এক ধরণের প্যাকেজ নাটক চলছে। অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা আক্তার হোসেনের কাছে তদন্তের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন আব্দুর রাজ্জাক এর কাছে সমস্ত কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে। সে এখনো জমা দেয় নাই। তবে সাত কর্ম দিবসের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি মিটিং আছে বলে ফোন কেটে দেন। এদিকে সাত কর্ম দিবস পার হয়ে কতো সাত কর্ম বছর পার হবে তা বলা মুসকিল।
এসব অনিয়ম দুর্নীতির তদন্ত সম্পর্কে জানতে প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রাজ্জাকের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সে কারণে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।