ঢাকা | বঙ্গাব্দ

প্রকৌশলী আবু নাসেরের কবলে গণপূর্ত অধিদপ্তর

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 27, 2026 ইং
প্রকৌশলী আবু নাসেরের কবলে গণপূর্ত অধিদপ্তর ছবির ক্যাপশন: তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু নাছেরের বিরুদ্ধে বহুমাত্রিক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ
ad728
জয়নাল আবেদীন যশোরী ও আসাদ মাহমুদ: 
আবু নাসের নামক এক রাহুর কবলে পড়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। বর্তমান সময়ে যে ক’জন প্রকৌশলী গণপূর্তকে নিয়ন্ত্রণ করছেন, তাদের মধ্যে একজন এই প্রকৌশলী। বর্তমানে আছেন ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-২ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে। ইতোপূর্বে বদরুল আলম নারী কেলেঙ্কারী বিষয়ক ঘটনায় জড়িত থাকায় তাকে সরালে ঢাকা সার্কেল ১ এর অতিরিক্ত দায়িত্বও বাগিয়ে নেন এই প্রকৌশলী। দুটি সার্কেল এর দায়িত্বে থাকলেও ডিপার্টমেন্টের পোস্টিং পদোন্নতি নিয়োগ লটারিসহ সকল কাজেই প্রভাব বিস্তার করে আসছেন তিনি। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত পার্সেন্টেজ বাণিজ্য ঘুষ দুর্নীতিকে তিনি নিয়ে গেছেন শিল্পের পর্যায়ে। লুটপাটে ক্রমেই হয়ে উঠছেন অপ্রতিরোধ্য। তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের। 
স্বৈরাচারের প্রেতাত্মা এই প্রকৌশলী নভেম্বর ২০১৭ থেকে মার্চ ২০২১ইং পর্যন্ত গণপূর্ত সম্পদ ডিভিশনের দায়িত্বে থাকতে আগারগাঁওয়ে পিএসসি ভবনসহ বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে অপ্রয়োজনীয় দ্বিগুণ তিনগুণ বরাদ্দ এনে কথিত ভ্যারিয়েশন এনে হাতিয়ে নিয়েছেন বড় অংকের অর্থ। এমনকি পিপিআর লঙ্ঘন করে ওই সময়ে এপিপির বেশীরভাগ কাজ এলটিএমের পরিবর্তে সাজানো ওটিএম এর মাধ্যমে পছন্দের ঠিকাদারদের পাইয়ে দিয়ে বরাদ্দের ১০% উৎকোচ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। সে সময়ে নিজেকে আ’লীগের একনিষ্ঠ সমর্থক বা নিবেদিত কর্মী হিসাবে পরিচয় দিতে নিজে উদ্যোগী হয়ে এলেনবাড়ি পূর্ত অফিস কম্পাউন্ডে বঙ্গবন্ধু কর্ণার এবং পিএসসি অফিস চত্ত্বরে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের নামে শেখ মুজিবের প্রতিকৃতি বা মূর্তি বানিয়ে আ’লীগ সরকারের আস্থা অর্জন করেন। বরাদ্দের টাকা এভাবে কথিত উন্নয়ন কাজের নামে ইচ্ছেমতো ব্যয় দেখিয়ে বড় অংশই লোপাট করেছেন তিনি। ওই কাজের পুরস্কার স্বরূপ পরবর্তীতে প্রমোশন নিয়ে তত্ত¦াবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে বগুড়ায় পোষ্টিং বাগিয়ে নেন তিনি। বগুড়া গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসাবে এপিপির কাজ এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবানের অনুমতি দিয়ে প্রায় কোটি টাকা লোপাট করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সে সময়ে একজন নারী কর্মকর্তা বগুড়া ডিভিশনের দায়িত্বে থাকার কারণে ডিভিশনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ বিল প্রদানসহ সামগ্রীক বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করেও অসংখ্য অনিয়ম দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন অভিযুক্ত এই কর্মকর্ত। এ কারণে বগুড়া সার্কেল অফিসে যে টুকু সময় অফিস করতেন কথিত মিটিং/ফিটিংয়ের নামে ওই নির্বাহী প্রকৌশলী ড. ফারজানা আখতারকে নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করার অভিযোগ করেছেন সেখানকার কতিপয় কর্মকর্তা ও ঠিকাদার। এমনকি ঢাকা থেকে ঠিকাদার ডেকে নিয়ে ওই সময়ে তাদের নামে প্রকৌশলী নাসের নিজেই ব্যবসা করেছেন বলে জানিয়েছেন তারা। প্রকৌশলী ড. ফারজানা ও ড. আবু নাসেরকে নিয়ে সে সময়ে অনেক মুখরোচক আলোচনা-সমালোচনা চাউর হয়ে উঠে বগুড়া গণপূর্তে ঠিকাদার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। জুলাই আন্দোলন পরবর্তীতে তিনি ঢাকা ২নং সার্কেলের দায়িত্বে আসেন। আর ড. ফারজানাকে বদলী করা হয় জয়পুরহাট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহিী প্রকৌশলী হিসেবে। পিপিআর বহির্ভূতভাবে এপিপির কাজে সার্কেল থেকে অনুমোদিত কয়েকটি ওটিএম টেন্ডার আইডি হচ্ছে- ১১১১৭৮১, ১১১৯৩১৬, ১১১৩০৭৯, ১১১১৫৬৩, ১১১১৫৫৮, ১১১১৫৫৯, ১১১১৫৬০, ১১১১৫৭০, ১১১১৫৬৭, ১১১১৫৬৯, ১১১১৫৬১, ১১১১৫৬৪, ১১১১৫৬৫, ১১১১৫৬৬, ১০৮১৫৪৬, ১১০০৭৯০, ১১০২০২৮, ১০৯১৯৭৩, ১০৯১৯৭৪, ১০৯১৯৭৫, ১০৯১৯৭৬, ১০৯১৯৭৭, ১০৯১৯৭৮, ১০৯১৯৭৯, ১০৮২১৫৯, ১০৮০২৩৫, ১০৮০২৩৬, ১০৬৯১৩১, ১০৭০৮৭৪, ১০৭০৮৭৫, ১০৭০৮৭৬, ১০৭১২৬৫, ১০৪৩২৪৮, ১০২৯৫৯৬, ১০১৮১৫৯।  
 
বগুড়া গণপূর্ত বিভাগের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী ড. ফারজানা আখতার

এছাড়াও বগুড়ায় থাকতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্টের কাজে ৪/৫গুণ বেশী প্রাক্কলন করে লুটপাটের পরিকল্পন হতো এই প্রকৌশলীর নেতৃত্বে। এর জলজ্যান্ত উদাহরণ হচ্ছে- বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে (শজিমেক) তিনটি গ্যালারিতে ২৪টি এসি বসানোর ঘটনা। এসি বসাতে ৭৩ লাখ ১৪ হাজার ৫২০ টাকা ব্যয় হলেও তা চালু করতে নতুন সাবস্টেশন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৬ কোটি ৭৫ লাখ ২৪ হাজার ৭৪১ টাকা। এ নিয়ে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ আপত্তি তুললে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। লুটপাটের এই পুরো পরিকল্পনা সাজানো হয় তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. আবু নাসেরের নেতৃত্বে। কলেজের অডিটোরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হল নির্মাণ প্রকল্পের জেনারেটর সরবরাহেও তার নেতৃত্বে ঘটেছে গুরুতর জালিয়াতি। গণপূর্তের ই-জিপি (ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট) দরপত্র অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিকে ২৫০ কেভিএ ক্ষমতার জেনারেটর দেওয়ার কথা ছিল, যার বরাদ্দ ছিল ৯ লাখ টাকা। বাস্তবে সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ১২০ কেভিএ জেনারেটর। অর্থাৎ নির্ধারিত ক্ষমতার চেয়ে ১৩০ কেভিএ কম ক্ষমতার জেনারেটর বসিয়ে বরাদ্দের পুরো টাকাই এই কর্মকর্তার যোগসাজশে লোপাট করা হয়েছে। এছাড়াও ওই সময়ে ডিভিশনটির অধীনে বগুড়া জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রসহ জেলার বিভিন্ন মডেল মসজিদ, এপিবিএন ব্যারাক বিল্ডিং, সিজেএম আদালত ভবন, আনসার ও ভিডিপি অস্ত্রাগার, বিভিন্ন থানা ভবন, তাঁতবোর্ড বেসিক সেন্টার ও কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদপ্তর ভবনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণ কাজে ব্যাপক জাল-জালিয়াতি হয়েছে এই পারফিউম প্রকৌশলীর নেতৃত্বে। এর মধ্যে লাভজনক কাজগুলো করাতে ঢাকা থেকে ঠিকাদার ডেকে নিয়ে প্রকৌশলী আবু নাসের চৌধুরী নিজেই করেছেন বেনামে ঠিকাদারী ব্যবসা। বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের নিযমিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দেশ ও জনস্বার্থে ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।



শেয়ার করুন:
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ