আসাদ মাহমুদ ও আলমগীর হোসেন:
তিনি হৃদয়ে লালন করেন স্বৈরাচার মননে পোষেণ ফ্যাসিবাদ। কাজে-কর্মে শতভাগ স্বৈরাচার। এমন একজন কর্মকর্তা হচ্ছেন প্রকৌশলী রাশেদ কবির। জুন/২০২৪ থেকে তিনি আছেন পাবনা গণপূর্ত বিভাগে। তার নেতৃত্বে রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্রীণ সিটির মেরামত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ নিয়ে চলছে নীরব হরিলুট। এই অপকর্ম নীরবে বাস্তবায়নের জন্য অধীনস্থ স্টাফ অফিসারকে দিয়ে চালানো হচ্ছে একের পর এক টেন্ডার জালিয়াতি। তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের।
এক অভিযোগে জানা যায়, ফ্যাসিবাদ স্বৈরাচার লালন-পালন ও ভালোবাসার কারণে আওয়ামী ঠিকাদারদেরই তিনি কাজ পাইয়ে দিচ্ছেন। গ্রীণ সিটির উন্নয়ন প্রকল্প থেকে শুরু এপিপি’র মেরামত রক্ষণাবেক্ষণের ৯০% কাজগুলো করছে আ’লীগ ছাত্রলীগের কথিত ঠিকাদার গ্রুপ। গোপালগঞ্জের অধিবাসী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা দ্বীন ইসলামের এসএ এন্টারপ্রাইজ, আ’লীগের বাবর এসোসিয়েটস্, আওয়ামী পকেটের ঠিকাদার শাহাদাৎ হোসেনের সাজিন কনস্ট্রাকশন লিঃ, কুষ্টিয়ার আ’লীগ নেতার প্রতিষ্ঠান গ্যালাক্সি এসোসিয়েটস্ স্থানীয় আরো ৩/৪টি প্রতিষ্ঠান একচেটিয়া কাজ করছে ডিভিশনটিতে। রেটকোট দিয়ে দেওয়াসহ এদের কাজ পাওয়ার সকল মেকানিজম প্রকৌশলী রাশেদ কবিরের হাতে।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, সদ্য মাবেক প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন চুপ্পু চেয়ারে বসার পরে এই পূর্ত প্রকৌশলী ব্যাপক ক্ষমতাবান হয়ে উঠেন। মহামান্যের নাম বিক্রি করে ধরাকে সরাজ্ঞান করে পূর্ত প্রশাসনের ওপরে ছড়ি ঘুরিয়ে আসছেন তিনি। ক্ষমতার প্রভাবে ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের আদেশ-নির্দেশকেও থোরাই কেয়ার করছেন সে সময়ে। বাহাদুরি দেখিয়েছেন নিজ সার্কেলের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তা দুই তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর (এসই) সাথেও। অভিযোগ করে ও মন্ত্রণালয়ে মোটা অংকের অর্থ খরচ করে একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে ইতোপূর্বে বদলী করিয়েছেন। সুবিধাভোগী ঠিকাদারদের লেলিয়ে দিয়েছেন সাবেক ওই এসই’র বিরুদ্ধে। তাদেরকে প্রলোভনে ফেলে উসকে দিয়ে এসই’র বিরুদ্ধে কথিত মানববন্ধনসহ বিভিন্ন প্রতিবাদ করিয়েছেন এই প্রকৌশলী। এতে সার্কেল ও ডিভিশনের কর্ম পরিবেশ বিঘিœত হচ্ছে। ভেঙ্গে পড়ছে চেইন অব কমান্ড। শোষিত বঞ্চিত বেশীরভাগ স্থানীয় ঠিকাদার বলছেন, পাবনা গণপূর্ত বিভাগে চলছে একজনের স্বৈরশাসন। আ’লীগের সময়েও এমন দেখা যায়নি। কিন্তু তার বিরুদ্ধেই টেন্ডার জালিয়াতির বিষয়ে স্থানীয় পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে গত সপ্তাহে। তাতে বলা হয়, নীতিমালা উপেক্ষা করে সোনেক্স ইন্টারন্যাশনাল ও ড্যাফোডিল ইলেকট্রিক কোম্পানি কে কাজ দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে পাবনা গণপূর্ত অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ কবির ও সহকারী প্রকৌশলী (ষ্টাফ অফিসার) আশরাফ চৌধুরী। এমনটি অভিযোগ করেছে ঠিকাদার মহল। ঠিকাদাররা জানান, রুপপুর পারমানিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র্রের আবাসিক ভবনের ৪৪টি লিফট যন্ত্রাংশ সরবরাহ ও মেরামতসহ অন্যান্য কাজের ২টি প্যাকেজে দরপত্র আহবান করে পাবনা গণপূর্ত অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ কবির। তারা জানান, সোনেক্স ইন্টারন্যাশনাল ও ড্যাফোডিল ইলেকট্রিক কোম্পানি সাথে যোগসাজশ করে পিপিআর-২০০৮ এর আইন নীতিমালা উপেক্ষা করে সরবরাহের ক্ষেত্রে এঙঙউঝ এর পরির্বতে ডঙজকঝ পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করে এবং দরপত্রের গোপন মূল্য বা ‘রেট শিডিউল’ তথ্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রকাশ করে। যা পুরোপুরি অনিয়ম। তারা আরো জানান, পাবনা গণপূর্ত অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ কবির, সহকারী প্রকৌশলী (ষ্টাফ অফিসার) আশরাফ চৌধুরী এর মাধ্যমে সোনেক্স ইন্টারন্যাশনাল ও ড্যাফোডিল ইলেকট্রিক কোম্পানি কাছ থেকে কমিশন নিয়ে তাদেরকে কাজ দেওয়ার জন্য পায়তারা চালাচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই দরপত্র বাতিল করে সঠিক নিয়মে পূনরায় দরপত্র আহবান করা জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী জানান ঠিকাদার মহল।
আরও পড়তে পারেন: পালিয়ে যেতে পারেন পাবনা গণপূর্ত প্রকৌশলী রাশেদ কবির!
দরপত্র বিজ্ঞপ্তি পর্যালোচনা ও ঠিকাদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ০৭ এবং ০৮ সেপ্টেম্বর ইজিপির মাধ্যমে রুপপুর পারমানিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আবাসিক ভবনের ৪৪টি লিফট যন্ত্রাংশ সরবরাহ ও মেরামতসহ অন্যান্য কাজের ২টি প্যাকেজে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ওই দরপত্র আহ্বান করেন কমিটির প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ কবির। ই-জিপির (ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট) মাধ্যমে আহ্বান করা দরপত্র বিক্রির শেষ তারিখ, দাখিল ও খোলার তারিখ ছিল গত ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর। সবশেষে ওই সনেক্সকেই কাজ দেন প্রকৌশলী রাশেদ কবির।
এমন অবস্থায় স্থানীয়রা বলেন গণপূর্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর এখানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হয় সেক্ষেত্রে, নির্দিষ্ট নিয়মের মাঝে কাজ করতে হবে। তা না হলে হয়তে অনিয়মটাই নিয়মে পরিনত হবে। যার পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ। আমরা এ থেকে প্রতিকার চাই।
তথ্যানুসন্ধানে আরো জানা যায়, ২০২৪ সালের জুন মাসের প্রথমদিকে ডিভিশনটির দায়িত্বে এসে প্রকৌশলী রাশেদ কবির গ্রীণ সিটিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের প্রায় সোয়া ৪শ’ কোটি টাকার ওয়ার্কঅর্ডার সাইন করেছেন। এ ক্ষেত্রে নির্বাহী প্রকৌশলী ১% হিসেবে প্রায় সোয়া ৪কোটি টাকা ঘুৃষ পেয়েছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। এ সময়ে তিনি উন্নয়ন প্রকল্পের বিল দিয়েছেন প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। এক্ষেত্রেও ১% হিসেবে প্রায় ১০ কোটি টাকা এব্ং এ্যাডভান্স বিলের ক্ষেত্রে প্রায় ৫শ’ কোটি টাকার বিলে তিনি ২% করে আরো প্রায় ১০ কোটি টাকা বাগিয়ে নিয়েছেন তিনি। তিন জুন ক্লোজিংয়ে ভূয়া বিল-ভাউচারসহ পিসি বাবদ আরো কয়েক কোটি টাকা পকেটস্থ করেছেন এই দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী।
নির্ভরযোগ্য সূত্র আরো জানায়, স্বৈরাচার লীগ সরকারের আমলে এই প্রকৌশলী ধানমন্ডি ও রাজারবাগ-১ সাবডিভিশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারগুলোতে কর্মরত ছিলেন। ধানমন্ডি ও রাজারবাগে থাকতে উর্দ্ধতনদের যোগশাজসে অধীনস্থদের নিয়ে নিজেই ঠিকাদারী ব্যবসা ও ভূয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে ঢাকার উত্তরায় বিলাশবহুল এপার্টমেন্ট ক্রয় করেন। এখন সেখানেই স্বপরিবারে থাকেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। বর্তমানে উত্তরায় আরো দুটি ফ্ল্যাট ও নিজ জেলা পাবনায় বিভিন্ন ধরণের সহায়-সম্পদসহ নামে-বেনামে শতাধিক কোটি টাকার মালিক বলে জানা গেছে।
তবে বিষয়গুলো নিয়ে পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ কবির ও সহকারী প্রকৌশলী (ষ্টাফ অফিসার) আশরাফ চৌধুরীর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। (ক্রমশঃ)